
ড্রাগন ফল নামটি আমাদের সকলের কাছে আচেনা হলেও ড্রাগন ফলের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জানলে আমরা কিছুটা অবাকই হব। এই ফলটি পিতায়া নামেও পরিচিত। পিতায়া বা ড্রাগন ফল আমেরিকার পরিচিত একটি ফল। এই ফলটি দেখতে খুবই সুন্দর, উজ্জ্বল সবুজ এবং গোলাপি রং এর হয়। ফলটির ভেতরে হাল্কা ক্রিম রঙের এবং কালো স্পট দেখা যায়। যা ফলটির রুপ আরও সুন্দর করে তলে। এই মধ্যেকার রসালো অংশটি খাওয়া হয়। অনেকে এর স্বাদ নাশপাতির মতো বলে থাকে।

এই ফলটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, ফ্লরিদা, ক্যারাবিয়ান, অস্ট্রেলিয়া তাছাড়া পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে উৎপাদন করা হয়। অবশ্য সর্বত্রই এখন পাওয়া যাই। মাঝারি ধরনের ফলটির মধ্যে আছে ৬০ শতাংশ ক্যালরি এবং ৩.৫৭ গ্রাম প্রোটিন শুনলে আশ্চর্য লাগে সত্যি। চলুন আবার আমরা জেনে নিই ড্রাগন ফলের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে।

ড্রাগন ফল কি (What a dragon fruit)
ড্রাগন ফল একটি ভিনদেশী ফল। ড্রাগন ফলের আরেক নাম পিতায়া ফল। এটিতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারি। তাছাড়াও ড্রাগন ফলের পুষ্টিগুণ ভরপুর। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, প্রোটিন এবং ক্যালসিয়াম, মিনারেলস, ফাইবার রয়েছে। এটি সালাড হিসাবেও ব্যবহার করা যায়।
আরও পড়ুন । ড্রাগন ফলের সাইড এফেক্ট আপনার জেনে রাখা উচিত
Key Point: ড্রাগন ফল অনেক রকমের হয়ে থাকে। যেমন লাল ড্রাগন বা পিটাইয়া, হলুদ ড্রাগন এবং কোস্টারিকা ড্রাগন ইত্যাদি।

ড্রাগন ফলের পুষ্টিগুণ (Nutrition of dragon fruit)
- ক্যালরি ৬০
- ফ্যাট ০ গ্রাম
- ফাইবার ৩ গ্রাম
- প্রোটিন ১.২ গ্রাম
- কার্বোহাইড্রেট ১৩ গ্রাম
- ভিটামিন সি ৩ শতাংশ (আরডিআই)
- ম্যাগনেসিয়াম ১০ শতাংশ (আরডিআই)
- আয়রন ৪ শতাংশ (আরডিআই)
আরও পড়ুন । আপনার জানা উচিত থাইরয়েডে কি খাওয়া বারণ

ড্রাগন ফলের পুষ্টিগুণ উপকারিতা (Nutritional benefits of dragon fruit)
- ক্যালরি – আমাদের দেহে শক্তির জোগান দেয়।
- ফাইবার – ফাইবার রক্তে শর্করার মাত্রা এবং কোলেস্টেরল উন্নত করতে পারে। এছাড়া এটি ফাইবার হজম স্বাস্থ্য এবং নিয়মিত অন্ত্রের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান।
- প্রোটিন – শরীরের ত্বক, চুল, নখ, হাড় বিকাশে প্রোটিন প্রয়োজন। ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়া থেকে শরীরকে প্রতিরক্ষা করে।
- কার্বোহাইড্রেট – কার্বোহাইড্রেটগুলি আমাদের দেহে গ্লুকোজ হিসাবে দ্রুত রক্ত প্রবাহে প্রবেশ করে।
- ভিটামিন সি – ভিটামিন সি একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি শরীরকে রোগের বিরুদ্ধে লড়তে সাহায্য করে।
- ম্যাগনেসিয়াম – ম্যাগনেসিয়াম হাড় গঠনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয়।
- আয়রন – রোগ প্রতিরোধক শক্তি বৃদ্ধি করে।
আরও পড়ুন । জেনে রাখুন আশ্চর্যজনক ১০ টি গাজরের উপকারিতা

স্বাস্থ্যের পক্ষে ড্রাগন ফলের উপকারিতা (The health benefits of dragon fruit)
যে ফলের মধ্যে আছে মিনারেলস, ফাইবার এর মতো গুন বলাই বাহুল্য সেই ফল স্বাস্থ্যের জন্য আতিমাত্রাই কার্যকর।
-
হৃদয় জনিত সমস্যা (Heart problems)

হৃদযন্ত্র জনিত সমস্যা নিয়ন্ত্রনে আসাধারন কাজ করে ড্রাগন ফল। এই ফল কোলেস্টরল নিয়ন্ত্রন করতে সাহায্য করে পাশাপাশি হৃদয়ে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পরিমান বৃদ্ধি করে।
-
ওজন হ্রাস (Weight loss)

বর্তমানে একটি কমন সমস্যা হল ওজন বৃদ্ধি। অনেক মানুষই নাজেহাল হন এই সমস্যা নিয়ে। তাদের জন্য এই ড্রাগন ফল একটি উত্তম বিকল্প।
যদি প্রতিদিন এই ফল খাবারের তালিকায় রাখা যায় তাহলে খুব সহজে ওজন হ্রাস করা যেতে পারে কারন এই ফলে আছে ফাইবার যা আমাদের রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রন করতে সাহায্য করে এবং যা ওজন হ্রাসের পথকে সহজ করে।
-
কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ (Cholesterol control)

ড্রাগন ফল কোলেস্টেরল কম পরিমাণে রয়েছে। এটি নিয়মিত সেবনে শুধু আপনাকে সুস্থ রাখে না বরং আপনার হৃদয় সুস্থ রাখে। যদি আপনি ওজন কমাতে চান, তাহলে ড্রাগন ফল আপনার জন্য সেরা হবে। এর বীজে উপস্থিত ওমেগা – ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড যা আমাদের শরীরের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন । জেনে নিন, শিশুদের জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার এ কী কী রাখা জরুরী
-
হজমজনিত সমস্যা (Digestive problems)

ড্রাগন ফলে আছে প্রচুর পরিমানে ফাইবার সমৃদ্ধ যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে হজমে সাহায্য করে এবং আমাদের পরিপাক গ্রন্থিকে সুস্থ রাখে।
-
আর্থ্রাইটিস (Arthritis)

ড্রাগন ফলে আছে শক্তিশালী অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি উপাদান। এটি ব্যথা নিরামক উপাদান। যার ফলে গাঁটের ব্যথা কমাতে সক্ষম।
-
কোশ সংরক্ষণ (Cell preservation)

ড্রাগন ফলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ, যা শরীরের কোষ সংরক্ষণের সাহায্য করে। এবং আমাদের শরীরের জেনেটিক কোষগুলিকে সংরক্ষণ করে।
আরও পড়ুন । স্বাস্থ্যের পক্ষে অ্যালোভেরার উপকারিতা
-
শরীরের শক্তি বৃদ্ধি করে (Increases the strength of the body)

ড্রাগন ফলের পুষ্টিগুণ প্রচুর। যা শরীরে এনার্জি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে এবং শরীরে শক্তি যোগায়।
-
চুলের জন্য সুবিধাজনক (Convenient for hair)

এটি আমাদের চুলের জন্য অনেক উপকারি। এটি চুলকে পরিষ্কার রাখে এবং এই ফল থেকে রস বের করে চুলে লাগালে চুল সুস্বাস্থ্য হয়। যদি আপনার চুল সাদা হয় তবে আপনাকে শীঘ্রই ড্রাগন ফল ব্যবহার করতে হবে।
শুধুমাত্র রোগ নিরাময় করে না এই ফলটির আরও কিছু বিশেষ গুন আছে, ত্বকের যত্নে ড্রাগন ফলের পুষ্টিগুণ আসাধারন কার্যকর। সানট্যান ও ব্রণ সমস্যা নিরাময় করে এই ফল। বর্তমানে এই ফল বিভিন্ন সাজসজ্জার উপকরন তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।
আরও পড়ুন । কাঁচা ছোলার গুণঃ নিয়মিত কাঁচা ছোলা এনার্জির চাবিকাঠি
সবশেষে এটাই বলার যে আমরা অনেকরকম ফলই তো ট্রাই করেছি, এই নতুন ফলটি না হয় আজ থেকে আমাদের খওয়ার তালিকায় যোগ করলাম সুস্থ থাকার জন্য।
Key Point: ফলটির ওপরের অংসটি পুরু এবং শক্ত হলে তখনি এই ফলটি খওয়ার উপযুক্ত। পুরু স্তরটি দেখলে বোঝা যায় যে এটি ঠিক ভাবে পেকেছে।
সচরাচর জিজ্ঞাস্য প্রশ্ন উত্তরঃ
Q. ড্রাগন ফল কি?
A. ড্রাগন ফল হল একটি ভিনদেশী ফল। পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি ফল যা আমাদের শরীরের জন্য উপকারি।
Q. দৈনিক ড্রাগন ফল কতটা পরিমাণ খাওয়া উচিত?
A. দৈনিক ২৫ গ্রাম ড্রাগন ফল খাওয়া উচিত।
Q. ড্রাগন ফল কি আর্থ্রাইটিস কমাতে সহায়তা করে?
A. আর্থ্রাইটিসের ব্যথা কমাতে সহায়তা করে।
Q. ড্রাগন ফলের রঙ কি?
A. এই ফলটি দেখতে গোলাপি রঙের।
Q. ড্রাগন ফল কোন অংশটি খেতে হয়?
A. ড্রাগন ফলের মধ্যেকার রসালো অংশটি খেতে হয়।
